কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে নতুন করে প্রকাশিত নথি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ নথিতে প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং যৌন অপরাধের নানা তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যেই ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি নথি এপস্টেইনের আরও ভয়ংকর একটি পরিকল্পনার কথা সামনে এনেছে।


\r\n

নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, জিন প্রকৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষের একটি উন্নত ‘সুপার-রেস’ তৈরির চিন্তা করেছিলেন এপস্টেইন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে অবস্থিত তার ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’-এ এ ধরনের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখতেন তিনি।


\r\n

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের ডিএনএ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে একসঙ্গে অন্তত ২০ জন নারীকে গর্ভবতী করার পরিকল্পনা করেছিলেন এপস্টেইন। এই খামারবাড়িতেই অতীতে নাবালিকাসহ বহু নারী তার দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


\r\n

বিশেষজ্ঞদের মতে, এপস্টেইনের এই ভাবনা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ট্রান্সহিউম্যানিজম’ ধারণার সঙ্গে মিল থাকলেও অনেকেই এটিকে নাৎসি আমলের ‘ইউজেনিক্স’ বা সুপ্রজননবাদী চিন্তার আধুনিক রূপ হিসেবে দেখছেন। এপস্টেইন এই প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ীর সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


\r\n

নথি অনুযায়ী, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনগত গতিবিদ্যা কর্মসূচিতে এপস্টেইন প্রায় ৬৫ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ২০১১ সালে ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্রান্সহিউম্যানিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এ ২০ হাজার ডলার দান করেন তিনি।


\r\n

এপস্টেইনের এই পরিকল্পনার কথা শুনে তার আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটসও আতঙ্কিত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, নাৎসি আমলে ইউজেনিক্স ব্যবহারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর এ ধরনের জেনেটিক ম্যানিপুলেশনে আগ্রহ নৈতিকভাবে গভীরভাবে আপত্তিকর।


\r\n

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান