এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে দেরিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোয় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি আনিসা আহমেদ। তিনি দাবি করেছিলেন, অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নেওয়ার কারণে কেন্দ্রে দেরি হয়েছিল। তবে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং সরকারি বাঙলা কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্তে তার এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

\r\n

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আনিসার ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে দুইটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উভয় কমিটির প্রতিবেদনে তার দেওয়া তথ্য প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তবে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, যদি তিনি বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ৬৬ নম্বর পান, তবে দুই পত্রের নম্বর মিলিয়ে পাস করা সম্ভব হবে।

\r\n

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, “আনিসার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হয়েছে এবং সেগুলো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। যদি বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ৬৬ নম্বর পাওয়া যায়, তবে প্রথম পত্র ছাড়াই ফলাফল প্রকাশ করা যাবে।”

\r\n

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, আনিসার মা হাসপাতালের নিয়মিত রোগী হলেও পরীক্ষার দিন হঠাৎ ভর্তি হওয়ার দাবি সত্য নয়। এমনকি ভর্তি সংক্রান্ত নথি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

\r\n

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান জানান, “আনিসা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তদন্ত কমিটির চাওয়া নথিপত্র আমরা তার কাছ থেকে নিয়ে জমা দিয়েছি। যদি শিক্ষার্থী ভুয়া স্লিপ দেয়, সেটি যাচাই করা আমাদের দায়িত্ব নয়—তদন্ত কমিটি তা পরীক্ষা করেছে।”

\r\n

প্রসঙ্গত, পরীক্ষার প্রথম দিনে সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে আনিসার কান্নার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নেটিজেনদের দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমে তাকে পরীক্ষায় বসানোর ঘোষণা দিলেও পরবর্তী তদন্তে ঘটনার ভিন্ন চিত্র সামনে আসে।