আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে সরকারি সাক্ষীদের জোরপূর্বক বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনজন সাবেক সাক্ষী। বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তারা এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীরা হলেন মাহবুবুল আলম হাওলাদার, মাহতাব উদ্দিন ও আলতাফ হাওলাদার। তাদের পক্ষে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পারভেজ হোসেন।
অভিযোগে বলা হয়, সাক্ষীদের ঢাকার গোলাপবাগের একটি সেফ হাউজে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে ভয়ভীতি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে মিথ্যা জবানবন্দী মুখস্থ করানো হতো। এমনকি মধুসুদন ঘরামী নামের এক সরকারি সাক্ষীকে তার নাতি সুমনকে অপহরণের হুমকি দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগকারীরা জানান, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম সাক্ষীদের বলেন, “তোমরা খালি নাম কইবা, সাঈদীকে ফাঁসি দেয়ার দায়িত্ব আমার। তোমাদের কোনো ভয় নাই। ভুল সাক্ষ্য দিলেও আমি ঠিক করে নেবো। কিন্তু সাঈদীর নাম না কইলে তোমাদের রক্ষা নাই।” একইভাবে বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবিরও শেখানো সাক্ষ্য না দিলে হত্যার হুমকি দেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কয়েকজন সাবেক বিচারক, প্রসিকিউটর ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
মাহবুবুল আলম হাওলাদার, যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, দাবি করেন ২০০৯ সালে পিরোজপুর-১ আসনের এমপি এ কে এম আউয়ালের নেতৃত্বে তাকে জোরপূর্বক সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনালে গিয়ে শেখানো মতে সাক্ষ্য না দিলে হত্যা ও ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে আইনজীবীরাও মিথ্যা কাগজে স্বাক্ষর করাতে এবং নির্যাতনের মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছিল।
তারা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলো ছিল “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সাজানো নাটক।” সাক্ষীরা দাবি করেছেন, ন্যায়বিচারের ঘোরতর লঙ্ঘন ঘটেছে এবং হত্যার হুমকি ও নির্যাতনের মাধ্যমে মিথ্যা সাক্ষ্য আদায় করা হয়েছে।
এর আগে ২১ আগস্ট আরেক সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি অভিযোগ করেছিলেন, সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তাকেও গুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তিনি শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি তুলেছিলেন।





