গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ‘আমরা হয়তো নির্বাচনী জোট করতে পারি বা আসন সমঝোতা করতে পারি। আসন সমঝোতা হলো এ আসনে আমাদের প্রার্থী থাকবে অন্য আসনে অন্যদের প্রার্থী থাকবে। এইভাবে আসন সমঝোতা কিংবা আগে নির্বাচনী জোট গঠন করেই আমরা সকলকে নিয়েই আগামী নির্বাচন করতে চাই। আমরা সবাই মিলে একটি জাতীয় ঐক্যমতের সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে আগামী পাচ বছর একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করে এই দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়ন কলেজ মাঠে গণ অধিকার পরিষদের ইউনিয়ন কমিটির আয়োজনে এক পথসভায় এসব কথা বলেন গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রাজনীতির মাঠে ফুটবল হতে আসিনি প্লেয়ার হয়ে এসেছি। আমরা বাপ দাদার কোঠায় আসি নাই নিজের যোগ্যতায় সংগ্রাম করে রক্ত দিয়ে রাজনীতির মাঠ তৈরি করেছি, দল তৈরি করেছি। ভূইফোড় দল না নিবন্ধিত দল। সারা বাংলাদেশে যার কার্যক্রম আছে। ইতিমধ্যেই দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে হয়তো আরো কিছু আসনের ঘোষণা করা হবে।’
এসময় তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কতগুলো নির্দেশনা নিয়ম নীতি আছে। সেগুলো আমাদের সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে মানতে হবে। আগামীতে আমরা চাচ্ছি বহুল প্রত্যাশিত একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। যেই নির্বাচন আমি-ডামি নির্বাচন হবে না। রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হবে না। কেন্দ্রে গেলে আরেকজনকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে বলা হবে না, আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। ওই দিন আর নাই ওই নির্বাচন আর বাংলাদেশে আসবে না।’
বকুল বাড়িয়া ইউনিয়ন কমিটির গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. জুয়েল খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নুরুল হক নুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট শিরিন আক্তার সেলি, যুব অধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সহসভাপতি মহিবুল্লাহ এনিম, গণ অধিকার পরিষদের গলাচিপা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব মো. জাকির মুন্সি প্রমুখ।
সভায় নুরুল হক নুর বলেন, আমাদের যে কাঙ্খিত যে নির্বাচন সেখানে আমরা বলছি যে, জনতাই বৈধতা, রাজ পথে আমরা শ্লোগান দিয়েছি জনতা না ক্ষমতা, এই শ্লোগান দিয়েই আমরা ক্ষমতার সাথে আপোষ করি নাই। শেখ হাসিনার মন্ত্রী সভায় অংশ নেই নাই। রাজ পথে আন্দোলন সংগ্রম করেছি। জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আজকের এ পরিবর্তন এনেছি। আগামীতে এ জনগণই বৈধতা দিবে কারা সরকার গঠন করবে কারা জন প্রতিনিধি হবে এবং এ জনগণের বৈধতা জনগণের নির্বাচনী মাঠের রেফারি হিসেবে ভূমিকা পালন করবে নির্বাচন কমিশন। সে নির্বান কমিশনকে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কোনভাবেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা আজকে আমাদেরকে কটু কথা বলছে। বাজে ভাষায় সমলোচনা করছে সে সমস্ত মানুষ অহংকার না, বাস্তবতা বলছি আমাদের লেভেলের না। মানসিকতা ব্যক্তিত্বে রাজনীতিতে কোন জায়গায়ই আমাদের ধারে কাছে নাই। তাদের জবাব দিয়ে কেন আমরা মুখ খারাপ করবো। কেন আমরা মানুষের কাছে তাদের মতো নিম্ন রুচি হিসেবে আমরা উপস্থাপিত হবো। যে যাই বলুক আমাদের সাহস এবং শক্তির জায়গা হচ্ছে জনগণ। আগামীতে কোন রাজনৈতিক দল কোন নেতা জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে এই বাংলাদেশে টিকতে পারবে না।’





