বুয়েটের শহীদ ছাত্র আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক এক নেতার বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
\r\nআবরার ফাইয়াজ মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করে ফেসবুকে লেখেন, “শাহবাগ ২০১৩ সালে শুধু যে জামায়াত বা বিএনপি নেতাদের রাজাকার বানিয়ে ফাঁসি দেওয়া বৈধতা এনে দিয়েছিলো এমন না, পরের বছরগুলোতে দল-মত নির্বিশেষে নিরীহ মানুষকে জামায়াত-শিবির ট্যাগ দিয়ে মারাও জায়েজ করেছিলো।”
\r\nএই স্ট্যাটাসের জবাবে বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি পরিচয়ধারী শাহরিয়ার ইব্রাহিম ফেসবুকে লেখেন, “জাশির কুত্তা আবরার ফাহাদকে হত্যা কেন জায়েজ ছিল, দেখ তোরা!”—এই মন্তব্যটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং নিন্দার ঝড় ওঠে।
\r\nএরপর শাহরিয়ার ইব্রাহিমের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনেকেই তার শাস্তি দাবি করছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
\r\nছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এটি প্রমাণ করে শাহবাগের উন্মত্ততা কতটা হিংস্র ছিল। আবরার ফাইয়াজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা পর্যন্ত তারা সহ্য করতে পারছে না।” তিনি আরও বলেন, “শাহবাগ ছিল ফ্যাসিবাদের বীজ থেকে গজানো গাছ, যার ফলাফল আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।”
\r\nএ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা ও সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলিফ মাহমুদ জানান, শাহরিয়ার ইব্রাহিম কিছুদিন আগে ঢাকা মহানগরের সভাপতির দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি ফেসবুক পোস্ট সম্পর্কে কিছু জানেন না বলেও জানান।
\r\nএদিকে, শাহরিয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও নিন্দা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য শুধু নৈতিকতা নয়, মানবতাবিরোধী আচরণের সামিল।





