বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করছে, যারা কিছু সংস্কারমূলক প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এই প্রস্তাবগুলোর অন্তত ৯৫ শতাংশ বিএনপি আড়াই বছর আগেই জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যুক্তরাজ্য থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মতামত দিয়েছে— বিএনপিও দিয়েছে। কোনো কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু জনগণের ভোটাধিকার, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার— এসব বিষয়ে আমাদের কারো সঙ্গে কোনো দ্বিধা বা আপত্তি নেই। তবে এসব অর্জন করতে হলে জনগণের রায়ে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি ও দেশপ্রেমিক শক্তির জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— ঐক্যবদ্ধ থাকা। তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচার চলে গেলেও অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি— অদৃশ্য শক্তি আবার মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। এখন যদি দেশের স্বার্থ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে আর বসে থাকার সময় নেই।”
বিএনপিকে একটি “বৃহৎ পরিবার” উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে না পারে। কেউ যেন বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত না করে। জনগণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর করতে হবে— তাদের পাশে থাকতে হবে, তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সম্মেলন উদ্বোধন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম।





