জুলাই আগস্ট আন্দোলনের মূল নায়ক তারেক রহমান এবং সবচেয়ে বেশি ভূমিকা বিএনপির বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি শনিবার (২৬ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়স্থ জিইসি কনভেনশন সেন্টারে আলোচনা সভা ও পেশাজীবী মহাসমাবেশে এই দাবি করেন।

সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, ‘জুলাই আগস্টের আন্দোলনের মূল নায়ক ছিলেন তারেক রহমান এবং যার সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ, তিনি হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’

আমীর খসরু বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশে তরুণদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই চিন্তা আমরা করে রেখেছি। আমরা এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের কথা বলছি প্রথম ১৮ মাসে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যা বলছি সেগুলো রাজনৈতিক বিবৃতি না, এগুলো তারেক রহমান সাহেব নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পনা করেছেন। স্বাস্থ্যখাতে কী হবে, শিক্ষাখাতে কী হবে, আইটি সেক্টর, ইন্ডাস্ট্রিতে, কৃষিখাতে কী হবে- সব আমরা হোমওয়ার্ক করেছি। আমরা এক কোটি চাকরির কথাও আমরা হোমওয়ার্ক করেই বলেছি।’

এখন দেশ গড়ার সময় মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজকের প্রেক্ষাপটে বিএনপির ৩১ দফার ভিত্তিতে এখন আমাদের দেশ গড়ার সময়, জাতি গঠনের সময়। এতদিন শেখ হাসিনার পতন ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। এখন তারেক রহমান বলছেন, রাজনীতিতে সহনশীলতার কথা। ভিন্নমত পোষণ করেও অপরের মতকে সম্মান জানানোর কথা বলছেন। কারণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে একশ সংস্কার করেও কোনো লাভ হবে না।’

আমীর খসরু বলেন, ‘শহীদ ওয়াসিমের নামটা পর্যন্ত আমি ঢাকায় কোথাও দেখি না। যে জুলাই আন্দোলনে প্রথম শহীদ ওয়াসিম, তার নামটা কোথাও আলোচনায় নেই।’

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ওয়াসিম আকরামের নামে আমরা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে একটি পার্ক করেছি। বিমানবন্দরের কাছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশও তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব এড. হাসান আলী চৌধুরী ও মহানগর ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখার ইসলাম লিটন। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ চট্টগ্রামের উদ্যোগে জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি।

এতে বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, সন্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, এ্যাবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জানে আলম সেলিম, সিএমইউজে’র সাবেক সভাপতি শামসুল হক হায়দরী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহকারী মহাসচিব মুস্তাফা নঈম, বার কাউন্সিলের সদস্য এড. এ এস এম বদরুল আনোয়ার, সিএমইউজে’র সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, জেলা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. আশরাফুল কবির ভূইয়া, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আবদুল সাত্তার, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক এড. তারিক আহমেদ প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আলোচনা সভা শুরুর আগে জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।