এক থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জন শারীরিক শাস্তি বা মানসিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এ ধরনের সহিংসতায় অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা রক্ষকের ভূমিকা থাকছে বলে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে সোমবার অনুষ্ঠিত ‘কমিউনিটি বেইজড চাইল্ড প্রোটেকশন মেকানিজম ফর দ্য চিলড্রেন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের ধারণাপত্রে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। আয়োজক ছিল টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস (টিডিএইচ-এনএল), ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস) ও ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক)। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন টিডিএইচ-এনএলের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নুরুল কবির।
ধারণাপত্রে বলা হয়, দেশে পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৭ শতাংশ শিশু শ্রমে জড়িত এবং অনেকে অল্প বয়সেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছে। পোশাক খাতের শ্রমিকদের সন্তানরাই সবচেয়ে অবহেলিত। তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে স্বল্প মজুরির ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ ও মাদকাসক্তির দিকেও ধাবিত হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, দেশে ১০২টি শিশু আদালত থাকলেও কিশোর বিচারব্যবস্থায় ২৩ হাজারের বেশি মামলা এখনো বিচারাধীন। গত বছরের তুলনায় মেয়ে শিশুর নির্যাতন বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ৩০৬ জন শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে। ইন্টারনেট তথ্য ও শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের সহজলভ্যতা শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সেমিনারে শিশু সুরক্ষায় কয়েকটি সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—গার্মেন্টস এলাকায় কমিউনিটিভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কাঠামো গঠন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় বিশেষায়িত শিশু সুরক্ষা ইউনিট প্রতিষ্ঠা, শিশুবান্ধব অধিদপ্তর গঠন, ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার বিচার সম্পন্ন করা এবং সমন্বিত জাতীয় শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন টিডিএইচ বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন বিটিএসের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম। এতে বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাইদুর রহমান খান, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) নাঈমা হোসেন, পদ্মা অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।





