গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৪নং জামালপুর ইউনিয়নের বড় জামালপুর গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক বড় জামালপুর শাহী মসজিদ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: মোঃ রিয়াদ প্রধান
মসজিদটি ঠিক কবে এবং কখন নির্মিত হয়েছে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো শিলালিপি বা লিখিত প্রমাণ না থাকলেও এলাকাবাসীর মুখে মুখে শোনা যায়, এটি প্রায় ৬০০ বছর পুরোনো একটি মসজিদ।স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, একসময় মসজিদটি বিশাল এক বটগাছের আড়ালে ঢাকা ছিল।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ এর অস্তিত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়নি। পরবর্তীতে বটগাছটি ভেঙে গেলে মাটির ভেতর থেকে মসজিদের গঠন দৃশ্যমান হয়। তখন এলাকাবাসী মসজিদটি দেখতে পায় এবং ধীরে ধীরে এটি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
এলাকায় অনেকেই একে “গায়েবী মসজিদ” বলে আখ্যা দেন। তবে এ দাবি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক উপজেলা প্রশাসক হক্কানী কুতুবউদ্দিন মসজিদটি নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে নিশ্চিত করেন যে, ১৩৪৬ সালে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি এটিকে মোগল আমলের স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে ১৩৪৬ সাল মোগল আমলের পূর্ববর্তী সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ—তবুও স্থাপত্যরীতিতে মোগল ধাঁচের প্রভাব লক্ষ্য করা যায় বলে ধারণা করা হয়।স্থানীয়দের বিশ্বাস, সে সময় হযরত শাহ্ জালাল (রা:) ইরান থেকে এ অঞ্চলে এসে ইসলামের দাওয়াত ও দীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং ধর্মীয় চর্চার প্রসারে ভূমিকা রাখেন। যদিও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিল পাওয়া যায়নি, তবুও এলাকাবাসীর ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এ কাহিনি প্রচলিত রয়েছে।
মসজিদটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এবং ভেতরে দুই কাতার নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল বলে জানা যায়। প্রাচীন কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে মসজিদটি তিনতলা বিশিষ্ট ভবনে রূপান্তর করা হয়েছে, যাতে অধিক সংখ্যক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।মসজিদের পাশে রয়েছে একটি বড় দীঘি, যা স্থানীয়দের মতে বহু পুরোনো। পাশাপাশি অবস্থিত শাহ্ জামাল (রা:)–এর মাজার, যেখানে ধর্মপ্রাণ মানুষ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আসেন।
এ স্থানটি ধীরে ধীরে একটি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় বড় জামালপুর শাহী মসজিদটি যথাযথ প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ও সরকারি সংরক্ষণের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। নির্ভরযোগ্য দলিল-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।





