ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিপুল অংকের টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার যে অভিযোগ উঠেছে, তাকে ‘মিডিয়া আক্রমণ’ ও ‘গাণিতিক ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করছেন তার সমর্থক ও স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশনের ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা এবং গাণিতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, এই অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
কেন এই অভিযোগ প্রশ্নবিদ্ধ?
অভিযোগ করা হচ্ছে , নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে আসা হচ্ছিলো । তবে ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি নির্বাচনী আসনের চিত্র বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন এক বাস্তবতা ফুটে ওঠে:
মোট ভোটার সংখ্যা: ১২,১৫,৮০৭ জন।
ভোটার প্রতি বরাদ্দ: যদি ৫০ লক্ষ টাকাকে মোট ভোটারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে প্রতি ভোটার পাবেন মাত্র ৪.১১ টাকা।
জয়ের জন্য যদি জামায়াতকে ন্যূনতম অর্ধেক ভোটও পেতে হয় (প্রায় ৬,০৭,৯০৪ জন ভোটার), তবে ভোটার প্রতি টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ৮.২২ টাকা।
সচেতন মহলের মতে, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে ৮ টাকা দিয়ে তো দূরে থাক, ৫০০ টাকা দিয়েও কি একটি ভোট কেনা সম্ভব?
জামায়াত সমর্থকদের দাবি, এটি মূলত বেলাল উদ্দিন প্রধানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। তারা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত 'মিডিয়া ট্রায়াল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
\"একটি চায়ের কাপের দামও এখন ৮ টাকার বেশি। সেখানে ৮ টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার দাবি কেবল হাস্যকরই নয়, বরং কাণ্ডজ্ঞানহীন।\"
চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রভাব
২০২৬ সালের হালনাগাদ ভোটার তালিকায় যে বিপুল জনবল দেখা যাচ্ছে, তাতে বড় অংকের অর্থনৈতিক লেনদেন ছাড়া কোনো পরিবর্তন আনা গাণিতিকভাবে প্রায় অসম্ভব। তাই জেলা আমিরের বিরুদ্ধে ওঠা এই সংবাদটিকে বিরোধী শিবিরের অপকৌশল হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।