যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে চায় ওয়াশিংটন। অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে মার্কিন পণ্যের আমদানি বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন দমন ও বাণিজ্য ভারসাম্য তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের পাঁচ দিনের ওয়াশিংটন সফরে এসব বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। তিনি ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন এবং মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এ সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করা, বাণিজ্য ঘাটতি এবং শুল্কসংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও প্রায় ৩০০ জন ফেরত পাঠানোর যোগ্য বলে চিহ্নিত। এছাড়া আনুমানিক ৪ হাজার বাংলাদেশি অনিয়মিত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, যাদের মামলা আদালতে বিচারাধীন।
বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে বাংলাদেশে রপ্তানি করেছে ২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। চলতি বছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তুলা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ আরও পণ্য আমদানি শুরু করেছে। তবে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্ক পরিশোধের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন দমন ও বাণিজ্য সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, বিষয়টি এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো অগ্রাধিকার নয়, তবে সামগ্রিকভাবে তারা অবাধ নির্বাচনের পক্ষে।





