ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানানো হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যানের একটি বড় অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত। তবে অভিযোগ রয়েছে, বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ এবং বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

\r\n

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্যানসংলগ্ন গেট দুটি বন্ধ করার জন্য বারবার চিঠি দেওয়ার পরও গণপূর্ত অধিদপ্তর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। গত ২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ একটি চিঠিতে লিখেছিলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাজু ভাস্কর্য-সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট দুটি স্টিল প্লেনশিট দিয়ে ঝালাই করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন।”

\r\n

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াত থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে শিক্ষার্থীরা বারবার বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছিনতাই, চুরি ও হেনস্তার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। কেউ এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় মাতব্বরি’, আবার কেউ বলছেন ‘অসাংবিধানিক ও বাস্তবতা বিবর্জিত’।

\r\n

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢালাওভাবে ‘বহিরাগত’ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, উচিতও নয়। প্রয়োজন একটি নীতিমালা, যা অ্যাকাডেমিক পরিবেশ রক্ষা করবে এবং জনগণের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিথস্ক্রিয়াও বজায় রাখবে।”

\r\n

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চাঁদাবাজি ও অবৈধ দোকানের বিষয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্যানে ১৬৪টি অবৈধ দোকান রয়েছে, যেগুলো থেকে মাসে ১২ লাখ টাকার বেশি চাঁদা আদায় হয়। দোকানগুলো পরিচালনার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের নামও উঠে এসেছে বিভিন্ন সূত্রে।

\r\n

ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে দাবি করেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। তাদের মতে, উদ্যান পরিচালনার দায়িত্বে গাফিলতির জন্য গণপূর্ত উপদেষ্টা আদীলুর রহমানকে জবাবদিহি করতে হবে।

\r\n

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’কে বলেন, “গণপূর্তকে বহুবার চিঠি দিয়েছি, মৌখিকভাবে বলেছি, মিটিং করেছি—তবুও তারা উদ্যোগ নেয়নি। আজ ১৪ মে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা, গণপূর্ত সচিব, ডিএমপি কমিশনার, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সিইওসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসার কথা রয়েছে। আমরা জানতে চাইবো, তারা কবে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”

\r\n

প্রক্টর জানান, অবৈধ দোকান উচ্ছেদে এরই মধ্যে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়েছে, যার সঙ্গে আর্মি, এপিবিএন, বিজিবি, সিটি করপোরেশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যুক্ত ছিল। তবে তিনি বলেন, “যারা দোকান বসায়, তাদের মধ্যে সচেতনতা না থাকলে এই সমস্যা আবার ফিরে আসবে। এবার আমাদের পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই—উদ্যান নিরাপদ করতে হবে।”

\r\n

ঢাবি প্রশাসন আশাবাদী, সব পক্ষের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।