৪৮তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই ধাপে মোট ৭০২ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এদের মধ্যে সহকারী সার্জন পদের জন্য ১৯১ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদের জন্য রয়েছেন ৫১১ জন।
মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি কমিশনের ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটক ওয়েবসাইটে (http://bpsc.teletalk.com.bd) প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশন জানায়, প্রয়োজন হলে যুক্তিসংগত কারণে তারা এই সময়সূচিতে সংশোধন আনতে পারে।
তবে এই ঘোষণার পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষায় জালিয়াতি ও অনিয়মের ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। ১৮ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় একাধিক ভুয়া বা বদলি পরীক্ষার্থী ধরা পড়ে।
খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্রে মো. নাজমুল হাসানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে পরীক্ষা দিতে আসে ফাহাদ মৃধা নামের এক ব্যক্তি, যিনি সিরাজগঞ্জের স্থলে নিজ জেলা কুমিল্লা থেকে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। একই কেন্দ্রে আরেক নারী পরীক্ষার্থীর জায়গায়ও অন্য একজন অংশ নেয়। এছাড়া ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে মো. লিটন শেখের রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে পরীক্ষায় বসেন এনামুল হক নামের আরেকজন। এ ধরনের প্রতারণার কারণে তিনজন বদলি পরীক্ষার্থীকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়াও ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে মোবাইল ফোন রাখার দায়ে এক পরীক্ষার্থীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অপর একজন পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্রে নকলের চেষ্টা করায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
আরেকটি গুরুতর অনিয়মের ঘটনায় দেখা যায়, এক পরীক্ষার্থী (আশিক ইকবাল) ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অংশে অন্য প্রার্থীর নম্বর লিখেছেন। ফলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে আজীবনের জন্য পিএসসির আওতাধীন সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এইসব অনিয়মের ঘটনায় পিএসসি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যারা বদলি পরীক্ষার্থী পাঠিয়েছে এবং যারা তাদের হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে—দু’পক্ষকেই ৪৮তম বিসিএস পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদেরকে আজীবনের জন্য পিএসসির অধীনে সকল সরকারি চাকরির পরীক্ষায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো শুধু বিসিএস পরীক্ষার মর্যাদাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সংগত মূল্যায়নের ওপরও আঘাত হানে। তবে কমিশনের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ এই বার্তা দেয় যে, পরীক্ষা-নির্ভর চাকরিতে অনিয়ম বা প্রতারণার কোনো স্থান নেই।





