নতুন বাংলাদেশ তথা ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ বিনির্মাণে ২৪ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই ঘোষণা দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চেয়েছিলাম যেখানে আর কখনো স্বৈরাচার ফিরবে না। তা হয়নি, ব্যর্থতা আমাদের আছে। তবে সে ব্যর্থতা স্বীকার করেই আমরা আবারও এসেছি ভবিষ্যৎ কর্মপথ নির্ধারণ করতে।”
‘আত্মসমালোচনা ও দৃঢ় অঙ্গীকার’
সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “২০২৪-এর অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন এক আকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়েছে—এই প্রজন্ম দেশ রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত। আমরা নিজেদের জবাবদিহির মধ্যে রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “৫৪ বছরেও জনগণ তাদের প্রাপ্য অধিকার পায়নি। আজকের সমাবেশে আমরা শহিদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসা, এবং সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবি জানাতে এসেছি।”
দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ হুঁশিয়ার করে বলেন, “কেউ হুমকি দিলে পিছু হটব না। এনসিপির এক নেতার দিকেও কেউ মুখ তুললে আমরা রাজনৈতিকভাবে তার জবাব দেব।”
ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়
দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, “যদি আমরা লড়াই ধরে রাখতে পারি, তাহলে যেভাবে শহীদ মিনার থেকে গণভবনে গিয়েছিলাম, তেমনিভাবে পার্লামেন্টে গিয়েও সরকার গঠন করব।”
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, “আওয়ামী লীগ শিক্ষা-সংস্কৃতি ধ্বংস করেছে। আমরা সর্বজনীন শিক্ষার দাবি জানাই। শেখ হাসিনার বিচার বাংলার মাটিতেই হবে।”
যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, “ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার থেকে মুক্তি পেলেও মানুষের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।”
যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা বলেন, “এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধনী-গরিব বৈষম্য থাকবে না, সকলে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে।”
২৪ দফার মূল ইশতেহার সংক্ষেপে
১. নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা
২. জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার
৩. গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার
৪. ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার
৫. সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান
৬. জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
৭. গ্রাম পার্লামেন্ট ও বিকেন্দ্রীকৃত স্থানীয় সরকার
৮. স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ
৯. সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা
১০. জাতিগঠনে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন
১১. গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব
১২. ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার মর্যাদা রক্ষা
১৩. নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন
১৪. মানবকেন্দ্রিক কল্যাণ অর্থনীতি
১৫. তরুণদের কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বে অগ্রাধিকার
১৬. বহুমুখী বাণিজ্য ও টেকসই শিল্পায়ন
১৭. টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব
১৮. শ্রমিক-কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা
১৯. জাতীয় সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা
২০. নগরায়ন, পরিবহন ও আবাসন পরিকল্পনা
২১. জলবায়ু পরিবর্তনের 대응 ও নদী-সমুদ্র রক্ষা
২২. প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিতকরণ
২৩. বাংলাদেশপন্থী পররাষ্ট্রনীতি
২৪. আধুনিক ও গণতান্ত্রিক জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল
এনসিপি জানিয়েছে, এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই গড়ে তোলা হবে একটি মানবিক, আধুনিক ও গণতান্ত্রিক ‘নতুন বাংলাদেশ’।





