২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত ১২৫ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বেলজিয়ামভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিস্ট ফেডারেশন (আইএফজে) এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম এশিয়ায়।

আইএফজে জানায়, ফিলিস্তিন ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫৬ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। যা মোট নিহত সাংবাদিকের প্রায় ৪৪ শতাংশ। ফলে ২০২৫ সালে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গাজা। সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে মিডিয়া পেশাজীবীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। গত বছর এ অঞ্চলে মোট ৭৪ জন সাংবাদিক নিহত হন।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে আফ্রিকায় এক বছরে ১৮ জন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৫ জন, আমেরিকায় ১১ জন এবং ইউরোপে ১০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া তালিকায় ৯ জন সাংবাদিক রয়েছেন, যাদের মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনায়। নিহতদের মধ্যে নারী সাংবাদিক ছিলেন ১০ জন।

ফেডারেশন জানিয়েছে, ভারতে চারজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ইউটিউব চ্যানেল ‘বাস্টার জাংশন’-এর পরিচালনাকারী সাংবাদিক মুকেশ চন্দ্রকরের হত্যা। তিনি ১ জানুয়ারি নিহত হন। ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন করার কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় আইএফজে।

সাংবাদিক হত্যা ছাড়াও কারাদণ্ডের চিত্র উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে ফেডারেশন। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ৫৩৩ জন সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কারাবন্দী সাংবাদিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ২৭৭ জন। একক দেশ হিসেবে চীনে ১৪৩ জন এবং মিয়ানমারে ৪৯ জন সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে ২০২৪ সালে আইএফজে জানিয়েছিল, সে বছর ১২২ জন সাংবাদিক নিহত এবং ৫১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ধারাবাহিক এই পরিস্থিতিকে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের ‘ক্রমাগত ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

আইএফজের সাধারণ সম্পাদক অ্যান্থনি বেলাঙ্গার বলেন, এক বছরে ১২৮ জন সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফেডারেশন।