২০২৫ সালে ইসরায়েল গ্যাস, প্রযুক্তি ও সামরিক খাতে রেকর্ড অঙ্কের ডলারের চুক্তি সই করেছে। সবচেয়ে আলোচিত চুক্তিগুলোর একটি আসে গত ডিসেম্বরে, যখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি চুক্তির অনুমোদন দেন। এই চুক্তির আওতায় ২০৪০ সাল পর্যন্ত লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্র থেকে মিশরে সর্বোচ্চ ৩৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গ্যাস সরবরাহ করা হবে। চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া উত্তর আফ্রিকার দেশটির ইসরায়েলের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা এই চুক্তির মাধ্যমে আরও গভীর হবে।


১৯৭৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা মিশর এই চুক্তিকে ‘সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে, এতে কোনো রাজনৈতিক দিক নেই। গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা নিয়ে দেশটির ভেতরে বাড়তে থাকা জনরোষের মধ্যেই এই চুক্তি করা হয়েছে।

২০২৫ সালে প্রযুক্তি ও সামরিক খাতেও ইসরায়েল একাধিক রেকর্ড পরিমাণ বহু-বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ফিলিস্তিন ও অঞ্চলজুড়ে সামরিক এবং নজরদারি সরঞ্জাম বিক্রির মাধ্যমে এসব খাত থেকে দেশটি উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ৩২ বিলিয়ন ডলারে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘উইজ’ অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে। একই সময়ে এনভিডিয়া ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হাইফা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই কেন্দ্রটি স্থাপন করা হবে।


ইউরোপে জার্মানির সঙ্গে ইসরায়েলের ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যারো–৩’ চুক্তিতে দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক রপ্তানি চুক্তি।


আল জাজিরার প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সই হওয়া সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য চুক্তিগুলোর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মিশরের একটি জ্বালানি কোম্পানির সঙ্গে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ২০২৬ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এটি ২০২৫ সালে ইসরায়েলের করা সবচেয়ে বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।