যুক্তরাষ্ট্র ১৯ দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের নথি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর গুলির ঘটনায় ‘উদ্বেগজনক’ দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস পরিচালক জো এডলো বৃহস্পতিবার এক পোস্টে জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে উদ্বেগজনক প্রতিটি দেশের বিদেশির গ্রিন কার্ডের ব্যাপক ও কঠোর পুনর্মূল্যায়ন শুরু করা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত ১৯ দেশ হলো: আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা। হোয়াইট হাউস জুনে প্রকাশিত তালিকায় বলা হয়, নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভিসা ওভারস্টে রেট এবং বিদেশি নাগরিকদের সন্ত্রাস বা জননিরাপত্তা ঝুঁকি এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার দুই গার্ড সদস্যকে গুলি করা ব্যক্তি আফগান নাগরিক রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তিনি ২০২১ সালে ‘অপারেশন অ্যালাইজ ওয়েলকাম’ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০২৪ সালে আশ্রয় আবেদন করেন। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তার আবেদন অনুমোদন করে।

ঘটনার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আফগান নাগরিকদের সব অভিবাসন আবেদন স্থগিত করা হয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় অনুমোদিত আশ্রয় মামলাগুলোও পুনঃপর্যালোচনা করা হচ্ছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ২০২১ সালের সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি আফগান যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসিত হয়েছেন।

ট্রাম্প ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি রয়েছে এবং বাইডেন প্রশাসন ২০ মিলিয়ন অজানা বিদেশিকে দেশে প্রবেশ করতে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, আফগান নাগরিকসহ প্রত্যেককে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে এবং ক্ষতিকরদের অপসারণ করতে হবে।

গ্রিন কার্ড একজন বিদেশিকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটি আশ্রয় বা শরণার্থী প্রোগ্রামের থেকে আলাদা, যদিও এক বছর অবস্থানের পর শরণার্থীরা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।