সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবি আদায়ে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ে আসলেও শিক্ষকরা পাঠদান বন্ধ রাখায় শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়, আগামী ১ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা বার্ষিক পরীক্ষা, যা মাত্র তিন সপ্তাহ দূরে থাকায় অভিভাবকরা শঙ্কিত।
সহকারী শিক্ষকদের দাবি তিনটি। প্রথমে ১০ম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি, দ্বিতীয়ত চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা সমাধান এবং তৃতীয়ত শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম করতে মন্ত্রিপরিষদ ও অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় হবে।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শিক্ষকদের দাবি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের পদত্যাগ। শহিদ মিনারে অবস্থানকালে শিক্ষকেরা কাফনের কাপড় হাতে শপথ নিয়েছেন, ‘১০ম গ্রেড ও শতভাগ পদোন্নতি ছাড়া ফিরে যাব না’।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেওয়া হয়, কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে সীমাবদ্ধ। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকরা দিনের মজুরির সমপরিমাণ বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদে অন্তর্ভুক্ত সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি এবং সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ।
এ বছরই এটি দ্বিতীয়বার শিক্ষকদের কর্মবিরতি। মে মাসে একাধিক দফায় স্বল্প সময়ের কর্মবিরতি চলার পর, ২৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছিল। তখনও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার আশ্বাসে শিক্ষকরা ১ জুন ক্লাসে ফিরেছিলেন। কিন্তু আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও শিক্ষকেরা রাস্তায় নেমেছেন।
অন্যদিকে ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-ভুক্ত শিক্ষকরা ১১তম গ্রেড, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা সমাধান এবং শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। তারা ঘোষণা করেছেন, ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। দাবি আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু হবে।
শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ পিটিআই কর্মকর্তা সমিতি এবং বাংলাদেশ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অ্যাসোসিয়েশন যৌক্তিক সমাধান ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।





