ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার উপহার দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
বৈঠকের পরে মাচাদো বলেন, “আজ ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।” ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পুরস্কার গ্রহণ করা ছিল “পারস্পরিক সম্মানের এক চমৎকার ইঙ্গিত।”
মাচাদো ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ের দাবি করলেও ট্রাম্প এখনও তাকে দেশটির নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। তিনি অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে ট্রাম্প মাচাদোকে “অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে যাওয়া একজন অসাধারণ নারী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মাচাদো হোয়াইট হাউসের বাইরে সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান, তিনি নোবেল শান্তি পদক ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছেন। তিনি এটিকে “আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতি” হিসেবে অভিহিত করেন।
যদিও নোবেল কমিটি আগে জানিয়েছে, পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়। হোয়াইট হাউসের নোবেল পিস সেন্টারও জানিয়েছে, “একটি পদকের মালিকানা বদলাতে পারে, কিন্তু বিজয়ীর উপাধি পরিবর্তন হয় না।”
মাচাদো তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, স্বাধীনতার লড়াইয়ে এ ধরনের পদক উপহার দেওয়া ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। তিনি মার্কিন কংগ্রেসেও যান এবং সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকের সময় হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট বলেন, মাচাদো ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য “এক অসাধারণ ও সাহসী কণ্ঠস্বর,” আর ট্রাম্প “এই বৈঠকের অপেক্ষায় ছিলেন ও ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রত্যাশা করেছিলেন।”
এর আগে ট্রাম্প মাচাদোকে “স্বাধীনতার যোদ্ধা” আখ্যা দিলেও মাদুরো অপসারণের পর তাকে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে বসানোর বিষয়ে কোনো সমর্থন দেননি। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল খাত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজও জব্দ করেছে।
হোয়াইট হাউসের বৈঠকের পাশাপাশি ট্রাম্প ও অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের মধ্যে ফোনালাপও হয়েছে। উভয় পক্ষই আলাপকে “ফলপ্রসূ ও সৌজন্যমূলক” হিসেবে বর্ণনা করেছে।





