জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন পারভীন নামের এক নারী। সোমবার (৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ মামলার তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে তিনি এ জবানবন্দি দেন।

\r\n

আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা পারভীন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এক বছর কীভাবে কাটিয়েছি, কেউ খবর নিয়েছে? বুড়া মানুষের মতো পইড়া আছি।”
তিনি জানান, পুলিশের গুলিতে তার বাঁ চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং ডান চোখে ঝাপসা দেখেন। তার মতে, “এই অন্ধত্বের জন্য দায়ী শেখ হাসিনা। তাঁর নির্দেশেই পুলিশ গুলি চালিয়েছে।”

\r\n

পারভীন জানান, গত বছরের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় দিনমজুরের কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তিনি সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেন। আহতদের সাহায্য করতে গেলে যাত্রাবাড়ী থানার ১৪–১৫ জন পুলিশ সদস্য তাদের ওপর গুলি চালায়। গুলি তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগে।

\r\n

তিনি আরও বলেন, এক আহত কিশোরকে সহায়তা করার সময় পুলিশ কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর তিনি রাস্তায় পড়ে যান এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

\r\n

পারভীনের অভিযোগ, প্রথমে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘পুলিশ কেস’ বলে তাকে ফিরিয়ে দেয়। পরে জনচাপের মুখে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুলিবিদ্ধ চোখ থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনটি গুলি বের করা হয়।

\r\n

জবানবন্দি অনুযায়ী, তার চিকিৎসার খরচ জোগাতে স্বামী বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করেন। পরে তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও অস্ত্রোপচার বিলম্বিত হয়।

\r\n

জবানবন্দি শেষে পারভীনকে জেরা করেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। জেরায় তিনি বলেন, “আপনার কথাগুলো অন্য কেউ শিখিয়ে দিয়েছে।” জবাবে পারভীন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি যা বলেছি, তা-ই সত্য।”

\r\n

এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ আসামি আরও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
আইজিপি মামুন ইতিমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। জবানবন্দি চলাকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

\r\n

এ নিয়ে মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। পারভীনের আগে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ইমরান এবং মাইক্রোবাসচালক খোকন চন্দ্র বর্মণ।

\r\n

আদালতের পক্ষ থেকে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পরে জানানো হবে।