হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। মোট বাজেট ১৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, এর মধ্যে ইউজিসি দেবে ১২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে আসবে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৬৩.১৭ শতাংশ। এর মধ্যে বেতন-ভাতা বাবদ ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৪৩ লাখ এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটি বাবদ ৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

তবে বাজেট আলোচনায় সবচেয়ে বেশি সমালোচনা উঠেছে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ নিয়ে। বর্তমানে হাবিপ্রবিতে ১১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও তাদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৬ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ০.০৪৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৫ লাখ, চলতি বছরে তা ১ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতে, এটি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

এক শিক্ষার্থী জানান, “যেখানে যানবাহন খাতে বরাদ্দ ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সেখানে আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় মাত্র ৬ লাখ—এটা কি আমাদের অগ্রাধিকার নয়?”

গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতেও বরাদ্দ কম। এ খাতে রাখা হয়েছে ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৩.২৮ শতাংশ। এর মধ্যে গবেষণার জন্য ৪ কোটি ৩০ লাখ এবং উদ্ভাবনের জন্য মাত্র ৩ লাখ টাকা। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ বরাদ্দকে শিক্ষার্থীরা ‘অপ্রতুল’ বলছেন।

বাজেটের অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রয়েছে—পণ্য ও সেবা (সাধারণ ও রক্ষণাবেক্ষণ) খাতে ৩৪ কোটি ৫ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি অনুদান খাতে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যানবাহন খাতে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ৯০ লাখ টাকা, অন্যান্য মূলধন অনুদান বাবদ ৭০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য অনুদান খাতে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “আমরা বাজেট চেয়েছিলাম প্রায় ১৬৯ কোটি টাকা। কিন্তু ইউজিসি থেকে অনুমোদন পেয়েছি ১২২ কোটি টাকা। বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ইউজিসির নির্দেশনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে আমরা আশাবাদী সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ আরও বাড়বে।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বরং যানবাহন ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।