যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে সম্ভাব্য যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
তবে এমন অভিযান চালাতে হলে ইরানের ভেতরেই মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন করতে হতে পারে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই চলমান সংঘাতে তার অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৫০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি আগে জানিয়েছিলেন, এই ইউরেনিয়াম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রায় উন্নীত করা সম্ভব।
তবে একই সঙ্গে গ্রোসি বলেছেন, ইরানে পারমাণবিক বোমা তৈরির অবকাঠামোর কোনো স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
তারপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই ইউরেনিয়াম জব্দের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব মজুত দখলে নিতে হলে ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে কঠোরভাবে সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে অভিযান চালাতে হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা উভয় দেশের যৌথ বাহিনী অংশ নিতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ করতে হলে “কাউকে ইরানে গিয়ে সেটি নিয়ে আসতেই হবে।” তবে কে বা কারা এই অভিযান পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।
মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে দুটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি হলো ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া, অন্যটি হলো সেখানেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের এনে এর ঘনত্ব কমিয়ে দেওয়া। এ ধরনের অভিযানে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থার বিজ্ঞানীরাও যুক্ত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এমন পদক্ষেপ নিতে হলে “খুব শক্ত কারণ” থাকতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হয়, তাহলে তা দিয়ে প্রায় ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। তাই চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই মজুতই এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।





