দাম্পত্য জীবন সুখী ও শান্তিময় রাখতে স্ত্রীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার ও সম্মানজনক আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৯)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর অনুসারীদের বারবার নারীদের প্রতি সদাচরণের উপদেশ দিয়েছেন। বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত—রাসুল (সা.) বলেন, ‘নারীদের ব্যাপারে আমি তোমাদের সদাচরণের উপদেশ দিচ্ছি। তোমরা আমার এ উপদেশ গ্রহণ করো।’
আবদুল্লাহ ইবনে জামআ (রা.)-এর একটি বর্ণনায় রয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন নিজের স্ত্রীকে গোলামের মতো মারধর না করে, অথচ দিনের শেষে তার সঙ্গেই শয্যায় যায়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫২০৪)
দাম্পত্য কলহ বা মতানৈক্য হলে সেটি কীভাবে মীমাংসা করতে হবে, তা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে ইসলাম। কোরআনের নির্দেশনা অনুসারে, যদি কোনো স্ত্রী অবাধ্যতার লক্ষণ দেখায়, তবে স্বামীকে প্রথমে বোঝাতে বলা হয়েছে। এতে কাজ না হলে, পরবর্তী ধাপে শয্যা বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ধাপে মৃদু প্রহার করার অনুমতি দেওয়া হলেও তার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রয়োজনে নারীদের এমনভাবে মারবে, যেন শরীরে কোনো দাগ বা আঘাতের চিহ্ন না থাকে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৮৫১)
তবে ইসলাম বিদ্যমান সব পরিস্থিতিতেই শান্তিপূর্ণ সমাধানকে গুরুত্ব দেয়। প্রহারের অনুমতি সর্বশেষ ও বিকল্পহীন অবস্থায় দেওয়া হলেও, তা যেন অত্যাচারে পরিণত না হয়—সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে কখনো কোনো স্ত্রীর ওপর শারীরিক আঘাত করেননি। বরং ঘরে ঢোকার সময় তাঁর চেহারায় থাকত হাস্যোজ্জ্বল শান্তি ও কোমলতা। পরিবারে আন্তরিকতা ও সহানুভূতির পরিবেশ গড়ে তোলা তাঁর অন্যতম সুন্নত। (ইসলাহি খুতুবাত, ২য় খণ্ড)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকেই স্পষ্ট হয়, স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ, সহনশীলতা এবং বোঝাপড়ার মাধ্যমেই গড়া সম্ভব একটি শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ পরিবার। ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীর প্রতি সম্মান ও সদ্ব্যবহার শুধু দায়িত্বই নয়, বরং তা একটি পুরুষের চরিত্রের প্রকৃত মাপকাঠিও বটে।





