পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ওপর অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রায় ১১ মাস তদন্ত শেষে গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিশনের প্রধান ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।
৩৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কমিশন দাবি করেছে, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বাসায় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের উপস্থিতিতে বিডিআর সদস্যদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথমে অফিসারদের জিম্মি করার পরিকল্পনা সামনে এলেও পরে তা হত্যার সিদ্ধান্তে রূপ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
কমিশনের দাবি, এসব বৈঠকের একটিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ, শেখ সেলিম ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রায় ২৪ সদস্য অংশ নেন। সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা এবং ঘটনার পর সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তাপসকে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পরিকল্পনার বিভিন্ন ধাপে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, লেদার লিটন ও তোরাব আলী উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে ৪৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিও কর্নেল শামস অবগত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তাপস তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পরিকল্পনার অনুমোদন নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে অসন্তোষকে উসকে দিয়ে বিদ্রোহ সৃষ্টি করা হয় এবং ওই বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে মূল লক্ষ্য ছিল সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিডিআরের কিছু সদস্য এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে বাসা, অফিস ও মসজিদে দফায় দফায় বৈঠক হয়। পাশাপাশি বিডিআর সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিতরণের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কমিশনের দাবি, তাপসের অফিসে ভারতীয় গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতেও একটি বৈঠক হয়। তদন্তে আরও আসে, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে সাবেক এমপি গোলাম রেজা পিলখানা এলাকায় আলাউদ্দিন নাসিম, সাবেক এমপি মোর্শেদ, শেখ সেলিম ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।





