কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের বার্ষিক আয় ছয় কোটি টাকার বেশি। কোম্পানির পরিচালক হিসেবে প্রাপ্য সম্মানী, জমি বিক্রি, ব্যবসা, কৃষি এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে ভাড়া বাবদ তিনি এ আয় করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রিধারী সালাহউদ্দিন আহমদের পেশা আইন ও ব্যবসা। তাঁর স্ত্রী হাছিনা আহমদের পেশাও আইন ও ব্যবসা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।


\r\n

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করা আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদের মোট প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৬ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা, যার বিপরীতে আয়কর প্রদান করেছেন ২১ লাখ ৮২ হাজার ২১৬ টাকা। তাঁর মোট দায়ের পরিমাণ ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা।


\r\n

সালাহউদ্দিন আহমদের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে নগদ অর্থ ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৬৭ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ টাকা। কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ১৯ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত রয়েছে ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া ৫৬ লাখ ৬০ হাজার ২৫ টাকা মূল্যের একটি কার ও দুটি জিপ, ১২ দশমিক ৩ তোলা স্বর্ণালংকার এবং তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।


\r\n

তাঁর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭ কোটি ৮৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৬৭ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ দশমিক ৩৬ একর কৃষিজমি (মূল্য ২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৯৭ টাকা), ১ দশমিক ৭৬ একর অকৃষিজমি (২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৫ টাকা), পেকুয়ায় ২ কোটি ৮৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৫৫ টাকা মূল্যের তিনতলা বাড়ি, ঢাকার গুলশানে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩১ হাজার ৭২০ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট এবং পেকুয়ায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের প্রাণী ও মৎস্য খামার।


\r\n

আয়ের খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, কৃষি খাত থেকে তাঁর আয় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে ভাড়া বাবদ আয় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রাণী ও মৎস্য খামার থেকে আয় হয়েছে ৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানী বাবদ আয় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া জমি বিক্রি থেকে মূলধনি আয় হিসেবে তিনি পেয়েছেন ৫ কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার ৩১১ টাকা।


\r\n

সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাছিনা আহমদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার ৪৪১ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১২৭ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ২৬ লাখ ৫ হাজার ৫৩৫ টাকা। তাঁর নামে কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ১৯ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ১২ লাখ টাকা এবং ৬৫ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৯ টাকা মূল্যের একটি কার ও একটি জিপ গাড়ি। উপহার হিসেবে প্রাপ্ত স্বর্ণালংকারের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৮ তোলা।


\r\n

হাছিনা আহমদের স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ৮ কোটি ৯৫ লাখ ৬ হাজার ১৭১ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৯ দশমিক ৪৩ একর অকৃষিজমি (মূল্য ৪ কোটি ৩২ লাখ ৯২ হাজার ৪০৭ টাকা), ১ দশমিক ৩২ একর কৃষিজমি (২ কোটি ৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৪০ টাকা) এবং কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে অবস্থিত ২ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৯২৪ টাকা মূল্যের ছয়তলা একটি ভবন।