ঢাকার ধামরাইয়ে সাবেক স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বদর উদ্দিন বদু (৩৫) নামের এক ব্যক্তি। বুধবার সকালে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ দুজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত সেলিনা আক্তার পিংকি (২৫) তিন বছর বয়সী ছেলে শামীমকে নিয়ে কালামপুর গ্রামে বাবার বাড়ি থাকতেন। মাস চারেক আগে বদর উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নবগ্রাম পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ট্রাকচালক বদর উদ্দিন প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে সাত বছর আগে কালামপুর গ্রামের আনছার আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। এক পর্যায়ে বাড়ি মালিকের মেয়ে পিংকিকে বিয়ে করেন তিনি। এতে তাঁর প্রথম স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যান।
স্থানীয়রা জানান, বদর উদ্দিন প্রায়ই নেশা করে বাসায় ফিরতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। এই কারণে চার মাস আগে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। বদর উদ্দিন কালামপুর বাজারের পাশেই ভাড়া বাসায় থাকতেন। মাঝেমধ্যেই তিনি ছেলে শামীমকে দেখার জন্য পিংকির বাড়িতে যেতেন।
গতকাল সকাল ৮টার দিকে তিনি ছেলে জন্য চিপস, চানাচুর ও জুস নিয়ে পিংকির বাড়িতে যান। এ সময় পিংকির মা ও বাবা বাড়িতে ছিলেন না। এ সুযোগে পিংকিকে কুপিয়ে জখম করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে বদর উদ্দিন বিষপান করে অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় তাদের ছেলে শামীম কক্ষের ভেতরে কান্না করতে থাকলে আশপাশের লোকজন দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকেন।
খবর পেয়ে পুলিশ বদর উদ্দিনকে অচেতন অবস্থায় ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত পিংকির মা রোমানা বেগম বলেন, বদর উদ্দিন আমাদের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে এসে আমার মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এখন এই তিন বছরের নাতি শামীমের কী হবে?
ধামরাই থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, সাবেক স্ত্রীকে হত্যার পর বদর উদ্দিন বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। দুটি লাশই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।





