তিন ঘণ্টারও বেশি সময় অবরোধের পর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় ছেড়েছেন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তারা সড়কটি ছেড়ে দেয়। তবে আন্দোলন এখানেই থামছে না—আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর) সারাদেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মাশফিক ইসলাম দেওয়ান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, দশম গ্রেড নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা তা মানবে না। দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

এদিকে, কর্মসূচি ঘোষণা করার পর ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যান।

এর আগে, বুধবার সকাল থেকেই তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড়ে জড়ো হতে থাকেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। পরে সকাল ১১টার দিকে সড়কটি অবরোধ করেন তারা। অবরোধের ফলে সড়কটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট তৈরি হয়। ফলে অফিসগামী মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপ সহকারি প্রকৌশলী থেকে সহকারি প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির হার বাড়ানো, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অনুপাতিক নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। দাবি আদায় না হলে আরো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের ৩০ শতাংশ পদোন্নতি কোটা বাতিল, জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদোন্নতির রায় বাতিল, ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদবি পরিবর্তন, ২০২১ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের নিয়োগ বাতিল ও নিয়োগবিধি সংশোধন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরেও সাতরাস্তা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ করে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা। প্রায় আধঘণ্টা অবস্থানের পর শিক্ষার্থীরা করে ক্যাম্পাসে ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, ৭ দফা দাবিতে দেশের একাধিক জেলায় বিক্ষোভ করছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। বুধবার গাজীপুরে সড়ক ও দিনাজপুরে সড়কের পাশাপাশি রেলপথ অবরোধ করেছে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।