সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ আবারও পিছিয়ে আগামী ১১ আগস্ট ধার্য করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এই দিন ধার্য করা হয়।

মামলাটির তদন্ত দীর্ঘদিন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অধীনে ছিল। গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। বর্তমানে ওই টাস্কফোর্সের তত্ত্বাবধানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলার তদন্ত পরিচালনা করছে।

তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় বিচারক নতুন করে আগামী ১১ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ দেন। এর আগে মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ মোট ১১৯ বার পিছিয়েছে।

মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তানভীর রহমান ও পলাশ রুদ্র জামিনে রয়েছেন, বাকিরা কারাগারে রয়েছেন। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে আছেন বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরের দিন, ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমকে।

এর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় র‌্যাবকে।

বর্তমানে টাস্কফোর্স ও পিবিআই’র তত্ত্বাবধানে তদন্ত চলমান থাকায় প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পুনরায় বৃদ্ধি পায়।