কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কসবা পৌরসভা গুরহিত গ্রামে এক উঠান বৈঠক গতকাল (৭ ফেব্রুয়ারী) শনিবার রাত ৮টায় ওয়ার্ড সভাপতি আবু বক্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আতাউর রহমান সরকার বলেন, দেশকে বর্তমান অবস্থা থেকে পরিবর্তন করতে হলে প্রকৃত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, আর সেই পরিবর্তনের জন্য জামায়াতে ইসলামীর বিকল্প নেই। এ কারণেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকেই ভোট দিতে হবে।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশ পরিচালনা করতে পারবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতেও জামায়াতের একাধিক মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন, অথচ তাদের বিরুদ্ধে একটি টাকারও দুর্নীতির অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, জনগণ এবার একটি বড় পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছে এবং সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে।
কসবা-আখাউড়া অঞ্চলকে সীমান্তবর্তী এলাকা উল্লেখ করে আতাউর রহমান সরকার বলেন, এই অঞ্চল বর্তমানে মাদকের একটি ভয়াবহ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, “আমি যদি নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসি, তবে এই মাদকের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব, কারণ মাদক আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।”
তিনি বলেন, যারা অতীতে ক্ষমতায় থেকেও জনগণের
ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি এবং যারা মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করে না, তাদেরকে পুনরায় সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
ক্ষমতায় এলে কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় একটি করে অফিস স্থাপন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওইসব অফিসে নিয়মিত বসে জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করা হবে এবং সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রবাসীদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীরা আমাদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক। তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।
সরকারি অনুদানের ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য প্রতি ছয় মাস অন্তর জনগণ ও গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় ‘গ্রাম উন্নয়ন ফোরাম’ গঠন করে স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধান করা হবে।
অটোরিকশা থেকে ‘জিবি’ নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে এ ধরনের সব চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার, চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাস্তাঘাট সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমীর ইয়াকুব আলী,আসন কমিটির পরিচালক কাজী সিরাজুল ইসলাম, কসবা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শিবলী নোমানী, পৌর জামায়াতের আমীর হারুন উর রশীদ, কসবা উপজেলা সাবেক শিবির সভাপতি আমির হোসেন সাঈদী, আখাউড়া উপজেলা সাবেক শিবির সভাপতি মুন্সীজাদা বরকতুল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রচার সম্পাদক সাইফুল আল আরিফসহ ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।





