ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি আজ বুধবার সকালেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান।

আইনের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের ১ উপ-ধারার প্রেক্ষিতে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করতে হয়। সেই অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের ভোটও স্থগিত হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তীতে নতুন নির্বাচনী তফসিল জানানো হবে।

এই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদল মঙ্গলবার রাতে মারা যান। রাত ১০টার দিকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত তিনটার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়েছে, নুরুজ্জামান বাদল দীর্ঘদিন ধরে কিডনি-জনিত রোগে ভুগছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মারা যান। তিনি জামায়াতের শেরপুর জেলা কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন।

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন:

  • বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ)

  • ইসলামী আন্দোলন মনোনীত মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন (হাতপাখা)

  • বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত মো. মিজানুর রহমান (কাঁচি)

  • বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা (মোটরসাইকেল)

উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সেই সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রার্থীর মৃত্যু সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ আরও বাড়িয়েছে।