আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. তাজুল ইসলাম দেশবাসীর উদ্দেশে সালাম জানিয়েছেন। সোমবার সকাল ৯টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আসসালামু আলাইকুম বাংলাদেশ। আল্লাহ এ দেশকে শান্তি ও নিরাপত্তার জনপদ হিসেবে চিরপ্রতিষ্ঠিত রাখুন।”

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন আজ। বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘিরে শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর রয়েছে ট্রাইব্যুনালের দিকে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ বেলা ১১টায় বসবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত দমন-পীড়নের নির্দেশ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব নির্দেশের ফলে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হন। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান বা দৃষ্টিশক্তি হারান।

ট্রাইব্যুনাল মামলায় পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়, ষড়যন্ত্র, উসকানি, পরিকল্পনা এবং গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততা। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের ওপর সমন্বিত হামলা চালায়, যা ঘটেছে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৪ জুলাইয়ের সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও উত্তেজনা ছড়ানো হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা, যা বাস্তবায়ন করেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক আইজিপি।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা, চাঁনখারপুলে গুলি করে ছয়জনকে হত্যা এবং ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছাত্রদের গুলি করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত।

বহু আলোচিত এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাতি অপেক্ষায় আছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য।