শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত না হলে দেশে কোনো উৎসবমুখর নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান।


সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রামের ২ নম্বর গেট এলাকায় চট্টগ্রাম কনভেনশন হলে বান্দরবানবাসীর আয়োজিত এক মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।


মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, \"শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর বিচার না হলে নির্বাচন কোনোভাবেই উৎসবমুখর হবে না। আমরা নতুন এক বাংলাদেশ নির্মাণের দিকে এগোচ্ছি। ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির এক বছর পার হলেও এখনো জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।\"


তিনি বলেন, নবেল বিজয়ী ড. ইউনুস শুরু থেকেই একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন।


শাহজাহান আরও বলেন, \"যে কোনো সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, জামায়াত সব সময় প্রস্তুত। তবে দেশের মানুষ পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চায়। এতে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সমর্থন রয়েছে। এই পদ্ধতিতে সংসদের উভয় কক্ষে সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।\"


তিনি আরও বলেন, \"জুলাই বিপ্লবে দেশের ১০৭ শিশু শহীদ হয়েছে, যা ইতিহাসে বিরল। প্রায় ২ হাজার শহীদ এবং অসংখ্য আহতের ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এবারের নির্বাচন তাই অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।\"


কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, \"টার্গেটভিত্তিক কাজ করতে হবে। ভোটারদের তথ্য মুখস্থ রাখতে হবে। মহিলা ও যুব সমাবেশ, উঠান বৈঠক শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে হাউস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। অমুসলিম ভোটারদের মাঝেও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।\"


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় স্কুল-কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম আজাদ এবং সঞ্চালনা করেন বান্দরবান জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বান্দরবান জেলা জামায়াতের আমির এস এম আব্দুস সালাম আযাদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস।


জামায়াত মনোনীত বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, “বান্দরবানে জামায়াত অতীতেও সম্মানের সঙ্গে নির্বাচন করেছে এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। আমাদের লক্ষ্য—বান্দরবানকে সন্ত্রাসমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ একটি জেলা হিসেবে গড়ে তোলা।”


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহ-সভাপতি মাওলানা রফিক বশরী, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ওমর ফারুক সিরাজী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট আবু নাসের, বাইশারী ইউনিয়ন সভাপতি মো. সেলিম, মাওলানা আইয়ুব আলী আনসারী, মহসিন কলেজ সভাপতি খুররম, ছাত্রশিবিরের বান্দরবান জেলা সেক্রেটারি মোস্তাক আহমেদ, সাবেক মহানগর দক্ষিণ সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং চট্টগ্রাম বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মোজাহিদ।