‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন।
বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন,“শেখ পালিয়েছিল পাকিস্তানে, শেখের বেটি পালিয়েছে ভারতে। গোপালগঞ্জের নাম ব্যবহার করে এই শেখের বেটি বাংলাদেশকে ছারখার করেছে। তাঁর পাশের বাড়ির মানুষের জীবনমানও উন্নত হয়নি। গোপালগঞ্জবাসীও তাঁর দ্বারা বৈষম্যের শিকার।”
তিনি আরও বলেন, “শেখের বেটিকে আমরা ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছি। গোপালগঞ্জবাসী আর ভয় পায় না। শেখ পরিবার কর্তৃক নিপীড়িতদের জন্য আমরা লড়াই করছি। আমরা পরিবারতন্ত্র নয়, নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য এসেছি।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে গোপালগঞ্জ, বগুড়া ও ফেনীর রাজনৈতিক বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা ব্যক্তি বা জেলার রাজনীতি করি না, বাংলাদেশের রাজনীতি করি। তাই সবাইকে এনসিপির পতাকাতলে আহ্বান জানাচ্ছি।”
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলাম, ডা. তাসনিম জারা সহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে তাদের স্বাগত জানান।
তবে সমাবেশ শুরুর আগে বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে মঞ্চে হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপির দাবি, সমাবেশের মঞ্চে থাকা সাউন্ড সিস্টেম, চেয়ার-মাইক ভাঙচুর করা হয়, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ বিষয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “হামলা করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। পুলিশ তখন চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা এই নাটক আগেও দেখেছি, নতুন বাংলাদেশে এমন দৃশ্য দেখতে চাই না।”
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা বেলা ২টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান এবং একে একে বক্তব্য দেন। এর আগে জেলার বিভিন্ন স্থানে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ইউএনও’র গাড়িবহরে হামলা ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে।
এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জজুড়ে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।





