জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বোড়াই রাহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসায় দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রশ্নবিদ্ধ চিত্র— পুরো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৯ জন, সেখানে শিক্ষক ১৭ জন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণত শিক্ষার্থী বেশি—শিক্ষক কম থাকে, আর এই মাদ্রাসায় উল্টো দৃশ্য শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অকার্যকর কমিটি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে প্রতি বছর শিক্ষার্থী কমতে থাকলেও শিক্ষক নিয়োগ কিন্তু কমেনি।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে—
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মিলিয়ে উপস্থিত ছাত্র–ছাত্রী মাত্র ৯ জন। অথচ পুরোনো তালিকায় দেখানো হয়েছে ২৪৫ জন শিক্ষার্থীর নাম।
উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ।

স্থানীয়রা জানান, এই ভুয়া তালিকাকে কাজে লাগিয়েই বহু বছর ধরে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।


আরও বিস্ময়কর তথ্য—মাদ্রাসার মাঠ এবং বন্ধ ক্লাসরুমে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলামের আলু মজুদ করা আছে।
দপ্তরির ভাষ্য—তিনি বারবার নিবৃত্ত করলেও সভাপতি আলু সরাননি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—শিক্ষকদের সন্তানদের ভর্তি অন্য প্রতিষ্ঠানে, উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন এখানে

১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “একজন ছাত্রের পিছনে দুইজন শিক্ষক থাকে! কিন্তু শিক্ষকরা নিজেদের সন্তান অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ান এবং এখানকার শিক্ষার্থীদের নামে উপবৃত্তির টাকা তোলেন। তাই কেউ এখানে পড়তে চায় না।”

৯ম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী জানান, “লেখাপড়া নিয়মিত হলেও ক্লাসে দুই-তিনজন ছাড়া কেউ আসে না। পুরো মাদ্রাসায় ১৫–২০ জন ছাত্র–ছাত্রীও নেই।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট নতুন করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয় রবিউল ইসলামকে সভাপতি করে, কিন্তু এ বিষয়ে অভিভাবক বা এমনকি দায়িত্বরত দাঁতা সদস্যরাও জানতেন না।

১ এপ্রিল হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে মাদ্রাসা সুপার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ সময় কৃষি শিক্ষিকা সুলতানা রাজিয়া উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলেন—“হাজিরা খাতা দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই, কারা আপনারা?”
অশালীন আচরণেও সুপার নীরব ছিলেন।
পরে জানা যায়, তিনি মাদ্রাসা কমিটির সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি।

অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  মোঃ জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন— “আমি এখনও ওই প্রতিষ্ঠানে যাইনি। অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন— “বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”


মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সংকট, ভুয়া তালিকা, কমিটির গোপন কার্যক্রম, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে বোড়াই রাহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসার চলমান অনিয়ম এখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার বিষয়।