৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যদিও সময়সূচি অনুযায়ী শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল ৯টায়।
ভোর থেকেই ক্যাম্পাসে ছিল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে প্রথম শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছায়। এরপর হাজারো শিক্ষার্থী ভোট দিতে অনুষদ ভবনের দিকে যান। কাটা পাহাড় এলাকায় স্থাপন করা হয় তল্লাশিচৌকি, যেখানে প্রবেশের আগে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হচ্ছে।
সকাল ১০টার দিকে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ৩১২৪ নম্বর কক্ষে ভোট দেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মো. শাফায়াত হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটারের আঙুলে দেওয়া অমোচনীয় কালি সহজেই উঠে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে জানান, “কালি উঠে গেলেও শিক্ষার্থীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হচ্ছে, তাই পুনরায় ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।”
একই কক্ষে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাহেদুল হক ভোট দেন। তিনি বলেন, “জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। দারুণ অভিজ্ঞতা। আশা করছি সারাদিন উৎসবমুখর পরিবেশ থাকবে।”
১৯৯০ সালের পর এই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে চাকসু নির্বাচন। এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৬ জন, এর মধ্যে ছাত্রী ১১ হাজার ১৫৬ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯০৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬ পদে লড়ছেন ৪১৫ জন এবং ১৪টি হল ও ১টি হোস্টেলের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৯৩ জন।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন ও সহসাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন প্রার্থী।
চাকসু নির্বাচনে ১৩টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল প্যানেল, ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’, বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ প্যানেল ‘দ্রোহ পর্ষদ’ এবং জুলাই আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের জোট ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ছাত্রদল, সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট, দ্রোহ পর্ষদ এবং বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্যের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্রোহ পর্ষদের ভিপি প্রার্থী ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ বলেন, “আমরা চাই চাকসু হোক আধিপত্যবাদী রাজনীতির বিকল্প এক গণমঞ্চ, যেখানে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।”





