শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় চাঞ্চল্যকর সুরেশ্বর দরবার শরীফ–এর খাদেম জয়নাল সরকার হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও দরবারের গদীনশীন পীর তোহিদুল হোসেন শাহীন নূরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ মার্চ) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নড়িয়া থানা পুলিশ দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জয়নাল সরকারের মেয়ে ইভা আক্তার (২০) গত ২৫ অক্টোবর নড়িয়া থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে জয়নাল সরকার বাড়ি থেকে বের হন। রাত ৯টার দিকে তিনি মায়ের ওষুধ নিয়ে বাসায় ফিরে আবার বেরিয়ে যান। এরপর রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন।
পরদিন স্থানীয় একটি গ্যারেজে তার ব্যবহৃত চেয়ার-টেবিল দেখতে পান স্বজনরা। পরে ২৪ অক্টোবর বিকেলে ঘড়িসার ইউনিয়নের আটপাড়া এলাকার একটি পুকুরে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করে। এর মধ্যে রবিন শেখ (৩২) নামে একজনকে মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শাহীন নূরীকে চিহ্নিত করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি, শটগানের ১৩৩টি খালি কার্তুজ, ৬টি হার্ডড্রাইভ, ১টি এসএসডি, ৪টি ওয়াকিটকি সেট, ১টি ডিভিআর, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ৪টি বাটন ফোন এবং ২টি স্লিংশট রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া শটগানের বিভিন্ন অংশ ও একটি বক্স জব্দ করা হয়।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যার পেছনের কারণ উদ্ঘাটন এবং অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে শাহীন নূরীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বাসা থেকে গাড়িতে করে মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে।





