শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ, যুবশক্তি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) তিন শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে সদর উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে নবাগতরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব ও শরীয়তপুর-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং শরীয়তপুর-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলামের হাতে ফুলের মালা পরিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন।
বিএনপিতে যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নেতারা হলেন— জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মজিবর রহমান খোকন, জেলা যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক রেজাউল করিম আদিব এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) যুব সংহতির সদস্য সচিব মো. সিয়াম।
যোগদানের আগে শুক্রবার বিকেলে মজিবর রহমান খোকন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে মজিবর রহমান খোকন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে তিনি নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক রেজাউল করিম আদিব বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণে জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সামনে রেখে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন তারা।
নতুন নেতাকর্মীদের স্বাগত জানিয়ে নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, হিংসা ও বিভেদ ভুলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক পরিবার গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ শরীয়তপুর গড়তে বিএনপি কাজ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





