জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরীয়াহ আইন কায়েম হবে কিনা এবং তা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর প্রয়োগ হবে কি না—এসব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। সম্প্রতি তিনি একটি টকশোতে এসব মন্তব্য করেন।

শিশির মনির বলেন, ইসলামের আইন মানে চুরি প্রমাণিত হলে শাস্তি হিসেবে হাত কাটা—তবে অতীতে এ বিধান কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা দেখতেই হবে। তিনি বলেন, “আইনকে সরলীকরণ করে ধরে নেওয়া যে এটা মানেই হাত কাটা হবে, তা সঠিক নয়। বাস্তবে বহু ক্ষেত্রেই বিধান প্রয়োগে সংশোধন বা স্থগিতাদেশ দেখা গেছে।”

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আইন পরিবর্তনের বিষয়ও বাইনারি বা সরলভাবে বোঝা যাবে না। “সোশ্যাল ও আইনগত প্রসঙ্গকে বাইনারি দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী শাস্তির বিধান নির্ধারিত হবে,” বলেন শিশির মনির। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পরিকল্পিত হত্যা এবং উত্তেজনার কারণে দুর্ঘটনাজনিত হত্যাকে একইভাবে বিবেচনা করা যায় না।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সকল ধর্মের জন্যই একই দন্ডবিধি প্রযোজ্য হবে। এখানে বাড়তি কোনো কঠোরতা বা বিশেষ ব্যবধান থাকবে না।”

শিশির মনিরের বক্তব্য অনুযায়ী, শরীয়াহ আইন প্রয়োগ হলেও তা কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর অনন্যভাবে চাপ সৃষ্টি করবে না এবং প্রাথমিকভাবে দেশের বিদ্যমান দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়িত হবে।