রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ৩৬’ ছাত্রী হলে রাত ১১টার পর প্রবেশ করায় ৯১ জন ছাত্রীকে প্রাধ্যক্ষের দপ্তরে তলব করেছে হল প্রশাসন।
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক লাভলী নাহারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেরিতে হলে ফেরা ছাত্রীরা ৩ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ও ৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিকেল ৪টায় প্রাধ্যক্ষের অফিসে উপস্থিত হবেন। প্রথম দিন ১ থেকে ৪৫ নম্বর পর্যন্ত এবং পরদিন ৪৬ থেকে ৯১ নম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাজির থাকতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিটি সোমবার রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টিকে ‘মানহানিকর’ এবং ‘প্রত্যাবর্তনের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী ও ছাত্র অধিকার কর্মী তাসিন খান ফেসবুকে লিখেছেন, “রাত ১১টার পর কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাধ্যক্ষ ম্যাম নিজেই কি হলের দায়িত্ব নিতে পারতেন? নারী হিসেবে ওনার নিরাপত্তাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাই এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়া উচিত তার।”
তবে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে ‘নিরাপত্তা রক্ষায় সচেতন পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন। কেউ লিখেছেন, “মেয়েদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাতে হলে ফেরা সীমিত রাখাই ভালো।”
প্রাধ্যক্ষ লাভলী নাহার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সবাই আমাদের সন্তানের মতো। নিরাপত্তার স্বার্থে ছাত্রীদের তলব করা হয়েছে। এখানে শাস্তির কোনো উদ্দেশ্য নেই। যারা একদিন মাত্র দেরি করে এসেছে, তাদেরও তালিকায় পড়ে যাওয়াটা অনিচ্ছাকৃত ভুল।”
তিনি আরও বলেন, “রাকসু নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছি। কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে না পড়ে।”





