বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হিসেবে খ্যাত কক্সবাজারের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের বালিয়াড়ি রাতের আঁধারে দখল করে বসানো হয়েছে শতাধিক অস্থায়ী দোকান। গত শুক্রবার গভীর রাতে এসব দোকান গড়ে তোলা হয় বলে জানা গেছে। সৈকতের এমন দখলের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ।

গতকাল শনিবার বিকেলে গিয়ে দেখা গেছে, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য এই দুটি সৈকত পয়েন্টের বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হুমকির মুখে পড়েছে। অপরিকল্পিত দোকানপাট বালুচরে গড়ে তোলায় ভ্রমণকারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশও।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হুমায়ূন আহমেদ বলেন, “নিঃশ্বাস নিতে সৈকতে এসেছি, কিন্তু এখন সৈকতের প্রতিটি জায়গায় যেন কেবল জঞ্জাল। এসব দেখার কেউ কি নেই?”

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ করছেন, জেলা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার গোপন অনুমতিতে সৈকতের বালিয়াড়িতে দোকান বসানো হয়েছে। জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই গোপনে এসব ব্যবসায়িক অনুমতি ইস্যু করা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত একটি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা আছে, যেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা বসানোতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এসব দোকান বসানোর ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গোপন সম্মতির ফল বলে অনেকে মনে করছেন।

দোকানদারদের একজন, সোহেল, সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তো আগে অনেকেই এখানে ব্যবসা করতে দেখেছি, তাহলে আমরা করলে সমস্যা কোথায়?” তবে কেউই বৈধ অনুমতির প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

পরিবেশবাদী সংগঠন বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, “সদ্য বদলি হওয়া জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতির সুযোগে গোপন অনুমতি নিয়ে এ কাজ করেছে একটি গোষ্ঠী।”

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহেদুল আলম বলেন, “রাতের আঁধারে দেশের এত বড় একটি সম্পদ দখলের বিষয়টি কল্পনাও করিনি। সত্যি বলতে, আমরা অত্যন্ত বিব্রত।”

তিনি জানান, কিছু অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে, তবে সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেছেন, “রাতের আঁধারে সৈকত দখলের ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”