ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকাগামী বিশেষ ট্রেনের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রেললাইন অবরোধ করেন রাজশাহীর একদল আন্দোলনকারী। সরকারের অর্থায়নে ভাড়া করা বিশেষ ট্রেনটির বগি লোকাল ট্রেনের মতো হওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে লাইনের ওপর বসে পড়েন এবং কেউ কেউ শুয়ে পড়েন। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, তাঁদের বনলতা বা সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের মতো আন্তনগর ট্রেনে ঢাকা নেওয়া হোক।


রেলওয়ে সূত্র জানায়, ওই বিশেষ ট্রেনটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯১ টাকা ভাড়ায় নেওয়া হয়। এতে ৫৪৮টি আসন রয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্র-জনতাকে ঢাকায় আনার জন্য মোট ৮ জোড়া ট্রেন ভাড়া করেছে সরকার, যার জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, নির্ধারিত ভাড়ার ভিত্তিতেই ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আন্তনগর ট্রেনের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হতো। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে রেললাইনের ওপর অবস্থান নেন। এ সময় বিশেষ ট্রেনে উঠে পড়া অন্য যাত্রীদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা চাপের মুখে রেললাইন ছেড়ে দেন।


পরবর্তীতে, আন্দোলনকারীদের ৩৫ জনকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।


রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, “সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি স্থানীয়ভাবে ভাড়া করা হয়নি।”


ঘটনার কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিশেষ ট্রেনটি প্রায় ৫৩ মিনিট পরে সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যায়। এর ফলে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৪৫ মিনিট বিলম্বে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে।


উল্লেখ্য, দুপুরে ঢাকায় জাতীয় সংসদের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠান। দেশজুড়ে ছাত্র-জনতাকে এতে অংশগ্রহণ করাতে ভাড়া করা হয়েছে বিশেষ এই ট্রেনগুলো।