বিএনপির সহ–আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেছেন, রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে কোনো সমাধান আনা যায় না। তিনি মনে করেন, কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ করলেও দলকে জনগণের মন থেকে সরানো না গেলে তা কার্যকর হয় না।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, অতীতে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, নিবন্ধন বাতিলও করা হয়েছিল। বিভিন্নভাবে দলটিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে। তারপরও তারা সক্রিয় রয়েছে। তার ভাষায়, নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেই দল শেষ হয়ে যায় না।

তিনি উদাহরণ হিসেবে মুসলিম লীগের কথা তুলে বলেন, এখনো দলটি টিকে আছে, যদিও তাদের শক্তি ক্ষীণ। “কাগজে নিষিদ্ধ করলেই লাভ নেই, মানুষ যদি সমর্থন দেয়, সেটাই আসল বিষয়,” বলেন তিনি।

রুমিন দাবি করেন, যে দলটি গত বছর নিষিদ্ধ হয়েছে এবং যার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত ছিল, তারাও মাঠে সক্রিয়। মানুষের সমর্থন সরানো ছাড়া কোনো দলকে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব নয়।

আলোচনায় তিনি বলেন, নতুন একটি ১৬ দলীয় জোট গঠনের কথা শোনা যাচ্ছে। তার মতে, আওয়ামী লীগের এমন কিছু ব্যক্তি, যারা অতীতে বড় পদে ছিলেন না বা গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী দায় এড়াতে চান, তারাও এই জোটে যুক্ত হতে পারেন।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। রুমিন বলেন, “আমি বলছি না, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথায়ই বলা হয়েছে— আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে তারা সেটি বানচাল করতে চায়।”

তরুণ ভোটারদের নিয়ে সাম্প্রতিক একটি জরিপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ হাজার ৫০০ জনকে নিয়ে করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে— ২০ শতাংশ বিএনপিকে, ১৭ শতাংশ জামায়াতকে এবং ৯–১০ শতাংশ আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চান। সবচেয়ে বড় অংশ এখনো অনিশ্চিত। তার মতে, অনিশ্চিতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক থাকলে দলটির সমর্থন ১৯–২০ শতাংশে উঠে যেতে পারে। “যতই নিষিদ্ধ করুন, মানুষ যদি ভোট দিতে চায়, কেউই তা ঠেকাতে পারবে না,” বলেন রুমিন ফারহানা।