রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক বণিক বার্তার সহসম্পাদক আহমাদ ওয়াদুদ। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে তিন রাস্তার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, ঘটনার সময় তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে একাধিক ছিনতাইকারী তার ওপর হামলা চালায় এবং চাপাতির আঘাতে তাকে আহত করে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে তার স্ত্রী কিছুটা দূরে থাকায় নিরাপদ ছিলেন। ঘটনার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় পৌঁছান। কিন্তু সেখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে অপেক্ষা করতে বলেন এবং পরে একটি ফোন নম্বর দিয়ে জানান যে এএসআই আনারুল এখন নবোদয় হাউজিং এলাকায় ব্যস্ত। ওয়াদুদ জানান, তিনি ওসির কক্ষে গিয়েও প্রতিকার পাননি। ওসি ইফতেখার হাসান তাকে বলেন, “আমি ওসি হয়েও কমদামি ফোন ব্যবহার করি, আপনি এত দামি ফোন নিয়ে ঘুরলে ছিনতাই তো হবেই!” পরে এএসআই আনারুল ঘটনাস্থলে যেতে রাজি হন। সাংবাদিক ওয়াদুদ তার সঙ্গে গিয়েও সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করেন। তিনি দাবি করেন, ছিনতাইকারীরা তখনো কাছাকাছি এলাকাতেই অবস্থান করছিল। তবে পুলিশ সদস্যরা সরাসরি তাদের দিকে না গিয়ে অন্য জায়গায় গিয়ে কথাবার্তা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, “আমি দূর থেকে ছিনতাইকারীদের দেখিয়ে দিলেও আনারুল সেখানে না গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। ছিনতাইকারীরা ধীরে ধীরে সরে যায়। পরে তিনি (এএসআই) বলেন, এখন আর ওদের ধরা যাবে না, গভীর রাতে অভিযান চালানো হবে।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার হাসান বলেন, “ভুক্তভোগী মূল রাস্তা থেকে একটু ভিতরের গলিতে গিয়েছিলেন মূত্রত্যাগের জন্য। সেখানে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত চলছে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার বক্তব্য সম্পর্কে ওসি বলেন, “ভুক্তভোগী অনেক আগের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ এনেছিলেন, সেই প্রেক্ষিতে আমি দামি মোবাইল নিয়ে চলাফেরা নিয়ে মন্তব্য করেছি, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।” উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২৭ জুন বসিলা ৪০ ফিট এলাকায় অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার হন দৈনিক কালবেলার স্টাফ রিপোর্টার নূরে আলম সিদ্দিকী। সাংবাদিকদের উপর একের পর এক হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংবাদ লোড হচ্ছে...





