জাতিসংঘের অনুরোধে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শর্ত সাপেক্ষে মানবিক করিডর দেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এই প্রতিবাদ জানান।
\r\nমঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর খিলগাঁওয়ের জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আগামী ৩ মে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় হেফাজতে ইসলামের ঘোষিত মহাসমাবেশের প্রস্তুতি জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
\r\nমামুনুল হক বলেন, \"বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। দেশপ্রেমিক শক্তি হিসেবে হেফাজতে ইসলাম এটি কোনোভাবেই সমর্থন করে না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।\"
\r\nসংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, মহাসমাবেশ ঘিরে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
\r\nমহাসমাবেশ সামনে রেখে মামুনুল হক হেফাজতের চার দফা দাবি তুলে ধরেন: কোরআন-সুন্নাহবিরোধী নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও কমিশন বাতিল, সংবিধানে বহুত্ববাদের পরিবর্তে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল, ফ্যাসিবাদের সময়ে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং শাপলা চত্বরসহ সব গণহত্যার বিচার, ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলিম নিপীড়ন ও গণহত্যা বন্ধ।
\r\nসংবাদ সম্মেলনের সূচনা বক্তব্য দেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান। তিনি বলেন, “যে কমিশন কোরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে সুপারিশ করে, তা দেশের মানুষ কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। সংবিধানে বহুত্ববাদ নয়, আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল করতে হবে।”
\r\nএ সময় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





