পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনায় নাব্যতা হারানো গলাচিপা পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী রতনদি খাল পুনরুদ্ধারে উচ্ছেদ ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পৌর এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সোমবার দুপুরে পৌরসভার খেয়াঘাট থেকে কলেজপাড়া পর্যন্ত খালের দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকান, ঘর ও স্থাপনা অপসারণ করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সাজন বসাক বলেন, খাল দখলমুক্ত ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। তিনি জানান, পুনঃখনন সম্পন্ন হলে জোয়ারের সময় নদীর পানি খালে প্রবেশ করতে পারবে এবং ভাটার সময় খালের পানি স্বাভাবিকভাবে নদীতে নেমে যাবে। এতে পৌর এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা-উলানিয়া সংযোগে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ রতনদি খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের চলমান খাল পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আওতায় খালটি পুনঃখনন করা হবে।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, একসময় রতনদি খাল ছিল এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। খালের স্বচ্ছ পানিতে মানুষ গোসল করত, গৃহস্থালির নানা কাজ করত এবং নৌকা ও ট্রলারের চলাচল ছিল নিয়মিত। কিন্তু বছরের পর বছর দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি নাব্যতা হারায়। এতে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্ষা মৌসুমে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করে।

এখন খাল দখলমুক্ত ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের মতে, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে রতনদি খাল আবারও তার পুরোনো রূপ ফিরে পাবে এবং গলাচিপা পৌরসভার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।