রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থামাতে ভূখণ্ড ছাড়ের প্রস্তাব গ্রহণে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা ইউক্রেনের জন্য প্রয়োজনীয়। এ প্রসঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “কিয়েভকে এটি পছন্দ করতেই হবে। যদি পছন্দ না করে, তবে তাকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।”—খবর এএফপি।
ওভাল অফিসে নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প আরও বলেন, “একভাবে বলা যায়, তিনি (জেলেনস্কি) পরিকল্পনাটি গ্রহণের পথে হাঁটছেন।”
তবে একই দিন কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলেনস্কি ২৮ দফার মার্কিন পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন মানে তাঁর দেশের সঙ্গে “বেইমানি করা”, কারণ প্রস্তাবটি “পুরোপুরি রাশিয়ার পক্ষে”।
এর আগে ট্রাম্প ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণের সময়সীমা ঠিক করেন—যে দিন যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাঙ্কসগিভিং ডে। ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার কাছে কয়েকটি সময়সীমা আছে। সব কিছু ভালোভাবে এগোলে তা বাড়ানো সম্ভব। তবে মনে করি, আগামী বৃহস্পতিবারই সঠিক সময়।”
মার্কিন পরিকল্পনার প্রধান শর্তসমূহ:
মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী— ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য অংশ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে হবে; সামরিক বাহিনীর আকার ছোট করতে হবে; ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে; ইউক্রেনে পশ্চিমা শান্তিরক্ষী প্রবেশ করতে পারবে না। অথচ কিয়েভ বরাবরই পশ্চিমা শান্তিরক্ষী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে ইউক্রেনের জনগণ আরও ভূখণ্ড হারাবে। তাই “সীমিত ভূখণ্ড ছাড়” তাদের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। তিনি ইউক্রেনীয় সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসাও করেন। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের ফলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন “যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছেন”। তাঁর ভাষায়, “এই যুদ্ধ আসলে এক দিনের যুদ্ধ হওয়া উচিত ছিল।”





