যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনকারী কারখানা না থাকলে বিদেশি কোম্পানির ওষুধ আমদানিতে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী ওষুধ শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যদিও নীতি মূলত পেটেন্টকৃত বা ব্র্যান্ডেড ওষুধকে লক্ষ্য করেছে, তবে এর প্রভাব বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকেও স্পর্শ করতে পারে।

আগামী ১ অক্টোবর থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে ১৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করছে। জেনেরিক ওষুধ (অ-পেটেন্ট, নন-ব্র্যান্ডেড) উৎপাদনে দক্ষতার কারণে দেশটি বিশ্ববাজারে ক্রমেই শক্ত অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম—২০২৪ সালের হিসাবে প্রায় দুই কোটি ১০ লাখ ডলার।

দেশীয় কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) থেকে অনুমোদন পেয়েছে এবং বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, শুল্ক আরোপে রপ্তানি আয়ে চাপ পড়তে পারে এবং বাংলাদেশি কোম্পানির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত হতে পারে। এছাড়া, ভারত ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সরবরাহকারী। তারা যদি সেখানে উৎপাদন কারখানা স্থাপন করে, তাহলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধান শক্তি হলো জেনেরিক ওষুধ, যার চাহিদা বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপ, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার এবং নভিস্টা ফার্মা লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেছেন, “সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্ক ঘোষণা মূলত পেটেন্টকৃত ওষুধের ওপর প্রযোজ্য। বাংলাদেশি কোম্পানি সম্পূর্ণ জেনেরিক ওষুধ নিয়ে কাজ করছে। তাই শুল্কের সরাসরি প্রভাব নেই।”

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি সীমিত। তবে শুল্ক যদি ভারতে বেশি আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কম হয়, তাহলে আমাদের শিল্পের জন্য সুযোগও তৈরি হতে পারে।”

সমিতির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন জানান, “শুল্কনীতি কার্যকর হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো বিকল্প বাজারে নজর দিচ্ছে এবং নতুন কারখানা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। এফডিএ অনুমোদিত মানোন্নয়ন ছাড়া প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্সও নতুন শুল্কের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, চলতি বছরে ব্যবহৃত ওষুধের ৫৩ শতাংশ উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হচ্ছে, বাকি আসে ইউরোপ ও অন্যান্য মিত্রদেশ থেকে। মার্কিন চেম্বার অব কমার্সও উল্লেখ করেছে, শুল্ক আরোপে মূল আমদানি উৎস দেশগুলো—মেক্সিকো, কানাডা, জাপান, জার্মানি ও ফিনল্যান্ড—জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয়।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের বৈধতা নিয়ে মামলা চলমান। ৯ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি হয়েছে, এবং ৫ নভেম্বর মৌখিক যুক্তি উপস্থাপন করা হবে। রায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।