যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় সরকারের শাটডাউনের কারণে দেশের আকাশপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার একদিনে ১,৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ৬,০০০ ফ্লাইট দেরিতে যাত্রা করেছে। এ পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিনে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, শনিবার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ১,৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের তুলনায় সামান্য কম হলেও শনিবার প্রায় ৬,০০০ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।
এর আগে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, শাটডাউনের কারণে দেশের ৪০টি ব্যস্ত বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমানো হবে। কারণ বেতন বন্ধ থাকায় অনেক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার) কাজে নিয়মিত নন।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের শাটডাউন ১ অক্টোবর থেকে চলছে। কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বাজেট নিয়ে একমত না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আমেরিকান এয়ারলাইনস শাটডাউন দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেতারা বিষয়টি নিয়ে একমত হওয়া প্রয়োজন।
নিউজার্সির নিউইয়র্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। শনিবার বিকেলে অনেক ফ্লাইট চার ঘণ্টারও বেশি দেরিতে বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। গড়ে দেরির সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা।
ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শার্লট/ডগলাস আন্তর্জাতিক, নিউইয়র্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক এবং শিকাগো ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বেশির ভাগ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া জন এফ কেনেডি ও হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে।
থ্যাংকসগিভিংয়ের ভ্রমণ মৌসুম চলায় বিমানবন্দরগুলোয় চাপ বেশি। এ পরিস্থিতিতে এফএএ জানিয়েছে, দেশের ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে শাটডাউনের কারণে ৪ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করতে হবে। শাটডাউন চললে ১৪ নভেম্বরের মধ্যে বাতিলের হার ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এবং আরও বেশি নিয়ন্ত্রণকর্মীর অনুপস্থিতি দেখা দিলে উড়োজাহাজ চলাচল ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে।





