যশোরে বিএনপির একের পর এক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও চাঁদাবাজি ও দখলবাজি থামছে না। গত এক বছরে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের তিন শতাধিক নেতা বহিষ্কার হলেও নওয়াপাড়া বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে।

চাঁচড়া ইউনিয়নের করিচিয়া গ্রামে মালেকা বেগমের সেমিপাকা ঘর নিয়ে বিরোধের ঘটনায় সালিসে বসে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা রাতেই তাঁর ঘর ভেঙে দেন। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা ও ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল হালিমকে বহিষ্কার করে জেলা বিএনপি।

একইভাবে আরবপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইউনূস আলীকে ব্যবসায়ী দখলবাজির অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। এমনভাবে শুধু সদর উপজেলা নয়, পুরো জেলায় তিন শতাধিক নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। শতাধিক নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, আর অর্ধশতাধিক নেতার পদ স্থগিত রয়েছে।


অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগের সময় যেসব স্থানে তাদের নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজি করত, বর্তমানে সেই জায়গার দখল নিয়েছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। দোকানপাট, নওয়াপাড়া বন্দর, মৎস্যঘের, হাটবাজার—সব জায়গায় দখল ও চাঁদাবাজির প্রতিযোগিতা চলছে।

নওয়াপাড়ার আলোচিত ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে গত বছর অপহরণ করে ৩ কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় করে বিএনপির পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি ও তার সহযোগীরা। টিপুর স্ত্রী মামলার পর জনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আতঙ্কে অনেক ব্যবসায়ী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে আওয়ামী লীগপন্থী ক্যাডাররা চাঁদা তুলত, এখন সেই জায়গায় বিএনপির নেতারা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। নওয়াপাড়া বন্দরের শতাধিক ঘাট বর্তমানে তাদের দখলে।


বন্দরকেন্দ্রিক ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন আগে নিয়ন্ত্রণ করতেন আওয়ামী লীগ নেতা রবীন অধিকারী ব্যাচা। ৫ আগস্টের পর তিনি আত্মগোপনে গেলে নিয়ন্ত্রণ নেয় শ্রমিক দলের সভাপতি রবিউল হোসেন। পরিবহন চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৬০০-৭০০ ট্রাক থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। তবে রবিউল দাবি করেন, “আমাদের সংগঠন কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়।”


অভয়নগর বিএনপির সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান বলেন, “শুরুতে বিএনপির কিছু নেতা জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের দলের কেউ এতে নেই।”

জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু জানান, “অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। অনেককে বহিষ্কার ও পদ স্থগিত করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”