ইবি প্রতিনিধি : মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দসহ ২০ দফা দাবি নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হল প্রভোস্টকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ছাত্রশিবির লালন শাহ হলের নেতাকর্মীরা। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর বারোটার দিকে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী আরিফুজ্জামান খানের কাছে এ দাবি জানান তারা।
এ সময় ইবি ছাত্রশিবিরের হল শাখা সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম, সেক্রেটারি মোতাসিম বিল্লাহ নাকিব ও এইচআরডি সম্পাদক জানে আলম জুয়েল উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লিখিত দাবি সমূহ হলো: নিরবিচ্ছিন্ন ও উচ্চ গতি সম্পন্ন ওয়াই-ফাই সংযোগের ব্যবস্থা করা। ডায়নিং এর খাবারের মান উন্নয়ন ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ। হলের খাবারের মান বৃদ্দির জন্য প্রশাসন কর্তৃক সাবসিটি বৃদ্ধি করা। হলে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করা। হলের মসজিদ নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখা, মসজিদের ছাদ সংস্কার করা ও এসি স্থাপন করা।
প্রত্যেক রুমে সিলিং ফ্যান নিশ্চিত করা। রিডিং রুমে পড়ার পরিবেশ বৃদ্ধির লক্ষে এসি স্থাপন করা। রিডিং রুমে জব রিলেটেড সকল বইয়ের ব্যবস্থা করা। হল অফিসের কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্ম চাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা। হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা ও ২৪ ঘন্টা প্রহরী নিশ্চিত করা। হলের গেস্ট রুম সংস্কার ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। জাতীয় দিবসগুলোতে স্পেশাল খাবারের ব্যবস্থা করা।
ডিবেটিং সোসাইটির রুমে ডেকোরেশন করা। টয়লেট ও বাথরুম সমূহ নিয়মিত পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা। হলের কনফারেন্স রুম নিশ্চিত করা। হলের প্রতিটি ব্লকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সিসি টিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করা। হলের দেওয়াল ও দরজার উপর থেকে পতিত ফ্যাসিস্টদের নাম অপসারন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুরো হল রং করা। হলের চার পাশে পরিবেশ সুন্দর করা। হলের প্রতিটি ব্লকে ময়লা ফেলার জন্য ঢাকনা সম্পন্ন ডাস্টবিন নিশ্চিত করা ও হলে সাঁপের উৎপাত নিরসনে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
হল শাখা সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে হল সংস্কারের লক্ষ্যে নানাবিধ সমস্যা প্রভোস্ট স্যারের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বেশকিছু সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছি। আমাদের হলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করছে। যা তাদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের দাবিতে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে হল প্রশাসনের নিকট ২০ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেছি। আমরা আশা করছি, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য এই দাবিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেবে।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী আরিফুজ্জামান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো ইতিবাচক। এর মধ্যে কিছু দাবি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে, কয়েকটির কাজ চলমান এবং বাকি বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে হলের সীমিত বাজেটের কারণে সব দাবি একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহযোগিতা করলে দাবিগুলো বাস্তবায়ন সহজ হবে।





